দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তবে থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি রেকর্ড হয়েছে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে, যা নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
নিহত ফিরোজ হোসেন (২৪) পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলগঞ্জ (বানিয়াপাড়া) এলাকার মৃত দিনার উদ্দিন দিনুর ছেলে।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি সালিশ বৈঠকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফিরোজকে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বৈঠক ছেড়ে চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন ইসলাম, তার ভাই ও পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামলু ইসলাম, শাহীনের ছেলে তুহিন ইসলামসহ কয়েকজন ফিরোজের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘর থেকে টেনে বের করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্বজনরা তাকে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ফিরোজের মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের আন্তঃজেলা মোড়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং হত্যা মামলা দায়েরের দাবি জানান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী ফেরদৌস ইসলাম বলেন, “আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে অপমানের কারণে বিষপানের বিষয়টি উল্লেখ করলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। আমি ভাই হত্যার সঠিক বিচার চাই।”
তবে সোমবার রাতে থানায় দায়ের হওয়া মামলায় উল্লেখ করা হয়, মারধরের ঘটনায় অপমানিত হয়ে ফিরোজ নিজ ঘরে কীটনাশক পান করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩০৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অনধিকার প্রবেশ, মারধর, গুরুতর জখম, আত্মহত্যার প্ররোচনা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে রেকর্ড করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, “পরিবার প্রথমে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছিল। পরে কীভাবে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হলো, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহীন ইসলাম, শামলু ইসলাম, তুহিন ইসলামসহ অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাদীর অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই